মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

ভাষা ও সংষ্কৃতি

উপজেলার ভূ-প্রকৃতি ও ভৌগলিক অবস্থান এই উপজেলার মানুষের ভাষা ও সংস্কৃতি গঠনে ভূমিকা রেখেছে। চারদিকে বড় বড় প্রমত্ত নদী বেস্টিত এ উপজেলার ভিতর দিয়ে বয়ে গেছে অনেকগুলো খাল। ইলিশ ধরার কাজে ব্যস্ত থাকে এ উপজেলার জেলে সম্প্রদায়। অভ্যন্তরীন খাল-বিলে কম-বেশি সারা বছরই পাওয়া যায় দেশী প্রজাতির খলিসা, টাকি, ট্যাংরা, পুটি,চ্যালা, মলা, ঢ্যালাসহ নানা ধরনের মাছ।

 

এ এলাকায় এক সময় বাস করত কামার কুমার ও জেলে সম্প্রদায়। সনাতনী এ পেশাগুলো এখন হারিয়ে যেতে বসেছে। কৃষি এ এলাকার মানুষের প্রধান পেশা। দেশের অন্যান্য কৃষি প্রধান এলাকার মত এ এলাকার ভাষা ও সংস্কৃতিতেও রয়েছে কৃষির ব্যাপক প্রভাব। বরিশালের আঞ্চলিক ভাষা বলে আমাদের সামনে যে ভাষাটি প্রচলিত সেটিই এ এলাকার আঞ্চলিক ভাষার প্রধান রূপ। মধুর ও আন্তরিক উচ্চারনের এ ভাষায় দুমকী উপজেলার মানুষের মুখে মুখে রয়েছে অনেক পুরনো কিছু শব্দ। যেমন- রান্না ঘরকে বলা হয় ‘ওরশ্যা’। আবার কাউকে যদি পছন্দ করা হয় সেক্ষেত্রে বলা হয়- ‘মুই হ্যারে ভাল পাই’।  আন্তরিক ও বন্ধুবৎসল এ এলাকার মানুষ খুবই অতিথি পরায়ন। মেজবান আয়োজনের প্রচলন এ উপজেলার এক বিশেষ দিক। নানা জাতের ধান যেমন- শাক্করখানা, কাটাবহরী, লতাসাইল,চিঙ্গুরভুসি, বালাম উৎপাদন করে এ এলাকার মানুষ। চালের গুড়া, নারিকেল, আদা, চিড়া, মুড়ির গুড়া চিনি দিয়ে মিশিয়ে তৈরী করা হয় এক দারুন স্বাদের পানিয়, নাম তার ‘মলিদা’। বিশেষ বিশেষ দিনে অতিথি আপ্যায়নে মলিদা এক অনিবার্য খাবারের পদ। 

 

 

ঋতু ভিত্তিক অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ঘোড়ার দৌড়, নৌকা বাইচ, বৈশাখী মেলা, পৌষ সংক্রান্তি, মহরমের মেলা, ইত্যাদির আয়োজন হয়। কখনও কখনও রাতভর চলে যাত্রাপালা অথবা কোথাও অনুষ্ঠিত হয় ইসলামী শরিয়ত মারফতের পালা গান।


ছবি